👉 লক্ষ্মীপূজার মাহাত্ম্য | গরীব ভক্তের গল্প | ভক্তিতে খুশি হলেন মা লক্ষ্মী@Joyramjoygobinda

 



শ্ৰীশ্ৰী রামঠাকুর ,বেদবাণী প্রথম খণ্ড,  পত্রাংশ  নং-(৩৭) 

সংসার মায়াময়, কেবল কর্ত্তৃত্বাভিমানেই মুগ্ধ। অহংপ্রাণের বৃদ্ধিই মায়াচক্রে ভ্রমণশীলতা লাভ করে। সুখ দুঃখ যাহার যাহার ভাগ্যবশতঃই লাভ হয়। শুভ অশুভ উভয়ই কৈতব প্রধান যাহা হইতে কৃষ্ণভক্তি অন্তর্দ্ধান হইয়া থাকে। শুভ অশুভ কর্ম্মই কৃষ্ণ ভক্তির বাধক হয়। ইচ্ছা, অনিচ্ছা জীবের অধিকার নাই, গুণ চঞ্চলতার বিবর্ণ মাত্র, অবিদ্যা কারখানা। ইচ্ছাময় অর্থাৎ যখন কোন ইচ্ছাই থাকে না সেই অবস্থায় কামগন্ধ বিন্দুমাত্রও ব্রজধামে থাকিতে পারে না, ঐ সকল অহংকারের পরিকর ধরফড়ানি মাত্র।



📌 পয়েন্ট টু পয়েন্ট ব্যাখ্যা |

১. সংসার মায়াময় – ভ্রান্তির বন্ধন

🔹 শ্রীঠাকুর বলছেন—এই সংসার মায়ায় গড়া
🔹 মানুষ এখানে কর্তৃত্বাভিমান অর্থাৎ "আমি কর্তা" এই অহংবোধে মুগ্ধ হয়ে পড়ে।
🔹 এই অহংকারই মূলত মায়ার ফাঁদ


২. অহংপ্রাণতা বাড়ালে মায়ার ঘূর্ণিতে ঘোরা অব্যাহত

🔹 অহং বা “আমিত্ব” যত বাড়ে,
🔹 ততই জীব মায়াচক্রে ঘুরে বেড়ায়—জন্ম, মৃত্যু, সুখ, দুঃখের চক্রে আবদ্ধ থাকে।


৩. সুখ-দুঃখ ভাগ্যের বিষয়

🔹 জীবনে যেটুকু সুখ বা দুঃখ আসে, তা ভাগ্যবশতই হয়।
🔹 এতে অহংকার বা আত্মঅভিমান করার কিছু নেই।
🔹 এটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মজ্ঞান—সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নয়।


৪. শুভ-অশুভ — উভয়ই মোহের কারণ

🔹 আমরা যে শুভ (ভালো) বা অশুভ (খারাপ) বলি,
🔹 উভয়ই কৈতব অর্থাৎ ছলনার অন্তর্গত, মায়ার অন্তর্গত।
🔹 এগুলো কৃষ্ণভক্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।


৫. কৃষ্ণভক্তির প্রধান বাধা: কর্মফল ও পছন্দ-অপছন্দ

🔹 শুভ কর্ম করলে যেমন আত্মসন্তুষ্টি আসে,
🔹 তেমনি অশুভ করলে পাপবোধ—
🔹 এই দ্বন্দ্বই কৃষ্ণভক্তির বাধা, কারণ এতে মন কৃষ্ণে একাগ্র থাকে না।


৬. ইচ্ছা-অনিচ্ছা জীবের হাতে নয়

🔹 জীবের ইচ্ছা বা অনিচ্ছা—এই সবও প্রকৃতপক্ষে তার নিজের হাতে থাকে না।
🔹 এগুলো গুণ ও চঞ্চলতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত—
🔹 এগুলো অবিদ্যার প্রভাব বা অবিদ্যার কারখানার উৎপাদন।


৭. কামমুক্ত অবস্থা — ইচ্ছাময় নয়, নির্লিপ্ত

🔹 ইচ্ছাহীন বা কামনামুক্ত অবস্থাই প্রকৃত ভক্তির পর্যায়।
🔹 যেখানে কামগন্ধও থাকে না,
🔹 সেই ব্রজধাম (ঈশ্বরচিন্তার পরমতীর্থ) এ তবেই প্রবেশ সম্ভব।


৮. অহংকারের দেহধারণ শুধু ধড়ফড়ানি

🔹 অহংকার ও কামনার মোহে আবদ্ধ জীবন একটানা ধড়ফড়ানি মাত্র
🔹 অর্থাৎ সেই জীবন সত্ত্বা নয়, অস্থিরতায় দংশিত


📚 উপদেশ ও শিক্ষা | Upodesh o Siksha

সংসার থেকে মুক্তি চাইলে কর্তৃত্বাভিমান ত্যাগ করো।
অহংকার যত বাড়ে, কৃষ্ণভক্তি তত দূরে সরে যায়।
ভালো-মন্দে নিজেকে গর্বিত বা হতাশ করো না—এই দ্বন্দ্বই ঈশ্বরভক্তির অন্তরায়।
নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ত্যাগ করে গুরুবাক্য ও ভগবানকে আশ্রয় করো।
কামনা ও অহংকার মুছে গেলে ব্রজধামের রস অনুভব হয়।
নির্লিপ্ততা, নির্বিকারতা ও ভক্তি—এই তিনে জীবনের মুক্তি নিহিত।


“সংসার কী সত্য? না কি এক অভিনব মায়া? শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেন—সংসার শুধুই মায়া, যেখানে আমরা নিজের কর্তৃত্ব নিয়ে অহংকারে ভেসে যাই। অথচ সেই অহংকারই কৃষ্ণভক্তির বাধা। আজ শুনুন বেদবাণী পত্রাংশ ৩৭-এর অমূল্য উপদেশ—জীবনকে মোহ থেকে মুক্ত করে কৃষ্ণভাবনায় স্থিত করার পথ।”


মায়ার সংসারে আমিত্ব বড়,
ভগবানের প্রেম তবে দূরে পড়ে।

শুভ-অশুভ দুই মোহের জাল,
ভক্তির পথে তো দেয় বিঘ্ন জটিল কাল।

ইচ্ছা-অনিচ্ছা তো গুণের খেলা,
কামনামুক্ত চিত্তেই ঈশ্বর মেলে।

অহংকার ধড়ফড়ে, শান্তি পাই না,
ভক্তির দীপ্ত আলোয় মোহ সব মুছে যায় না?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন